সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি - সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজ কি

অনেক ভাবতে পারো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি কাজ করে । সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হল একটি পেশাদার প্রকৌশল শৃঙ্খলতা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ হল রাস্তা, সেতু, খাল, বাঁধ, বিমানবন্দর, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা , পাইপলাইন, ভবনগুলির প্রাকৃতিকভাবে নির্মিত পরিবেশের নকশা, নির্মাণ করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের এর কাজ । চলো জানা যাক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি পড়ানো হয়, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অর্থ কি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ কি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর বাংলা কি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং মানে কি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার যোগ্যতা ।

পোস্ট সূচিপত্র: সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার যোগ্যতা এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজ কি

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি পড়ানো হয়

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের সাধারণত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকে। বর্তমান বাংলাদেশে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করতে চার বছর সময় লাগে এবং সম্পূর্ণ ডিগ্রিটিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে মনোনীত করা হয়। বাংলাদেশ যেভাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করা যাই। 

বিজ্ঞান ও মানসিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাসের পর যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠান থেকে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা পাস করা এরং তারপর দুই বছর মেয়াদে বিএসসি সম্পূর্ণ করা‌‌। আবার অনেকেই বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের বিএসসি অনার্স পাস করে এবং তারপর এম‌এসসি সম্পূর্ণ করে। 

আরো পড়ুন: ফুটপাতে চা বিক্রি করে কোটিপতি 

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি পড়ানো হয় যেমন পদার্থবিদ্যা, গণিত, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ক্লাস অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং নকশা তৈরি করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নির্দিষ্ট বিষয়। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বেশিরভাগ উপ-শাখায় প্রথম বছর কোর্স নেওয়া হয় এবং তারা দ্বিতীয় বছর উন্নত স্তরে এক বা একাধিক উপ-শাখায় বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য এগিয়ে যায়। যা ছাত্রদের তাদের আগ্রহের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আরও বিশেষজ্ঞ করতে দেয়। 

বাংলাদেশের যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে 

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি বাংলাদেশে খুব অল্প কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে ।

  1. (বুয়েট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় 
  2. (ডুয়েট) ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 
  3. (কুয়েট) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 
  4. (রুয়েট) রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 
  5. (চুয়েট) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 
  6. (সাস্ট) শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 
  7. (হাবিপ্রবি) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 
  8. (বুশেমুরবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে 

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি বাংলাদেশে সরকারি পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিপ্লোমা নিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়া অনেক ব্যয়বহুল হয়ে থাকে। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে ।

  1. ‌ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
  2. ‌আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
  3. ‌আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ‌ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক
  5. ‌আন্তর্জাতিক কৃষি ব্যবসায় এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  6. ‌স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি
  7. ‌বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা
  8. ‌রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  9. ‌সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়
  10. ‌পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
  11. ‌নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ
  12. ‌জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  13. ‌ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
  14. ‌ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
  15. ‌প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়
  16. ‌ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ 
  17. ‌ ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সস
  18. ‌সিটি ইউনিভার্সিটি
  19. ‌লিডিং ইউনিভার্সিটি
  20. ‌প্রাইম ইউনিভার্সিটি
  21. ‌সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি
  22. ‌পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
  23. ‌কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়
  24. ‌ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

এছাড়াও আরো ৫৫ টি সরকার ও বেসরকারি পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউট রয়েছে সেখানে থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিপ্লোমা করা যাই।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অর্থ কি

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এটা একটি ইংরেজি শব্দ, অনেকেই জানতে চাই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অর্থ কি অথবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর বাংলা কি । সিভিল শব্দের অর্থ হল পুর এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দের অর্থ হল প্রকৌশলী তো পুর+প্রকৌশলী= পুরকৌশল। সুতরাং বলাই যাই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দের অর্থ বা বাংলায় পুরকৌশলী বলা হয়। পুরকৌশল বা পূর্তকৌশল হলো পেশাদার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকৌশল ব্যবস্থার একটি শাখা।

আরো পড়ুন: ভ্যাম্পায়াদের বাস্তবে অস্তিত্ব আছে 

যেখানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নকশা, নির্মাণ করে এবং সেটাই বাস্তবিক রুপ দেয়। এবং তাদের নকশার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে সেতু, রাস্তা, বাঁধ, ভবন, বাড়ি, ইত্যাদি নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত। তোমাদের হয়তো মনে আছে কিছুদিন আগে বাংলাদেশে পদ্মা সেতু তৈরি হয়েছে । এই পদ্মা সেতু তৈরির পেছনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ কি

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ হল নতুন সেতু, রাস্তা, বাঁধ, ভবন, বাড়ি,রেলপথ, ফেরিঘাট, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নকশা নির্মান করা। এই যে ঢাকা শহরে এত বড় বড় বিল্ডিং তৈরি হয়, তোমরা কি ভেবে দেখেছো এই এত বড় বড় বিল্ডিং এর তৈরির পেছনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কত বড় অবদান থাকে। একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর নকশা ছাড়া কখনোই এত বড় বড় ভবন বা বিল্ডিং তৈরি করা সম্ভব নয়। তো আমরা যদি এক কথায় বলি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ কি নকশা তৈরি করা।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ইতিহাস

১৮১৮ সালে লন্ডনে ইন্সিটিউট অফ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮২০ সালে থমাস টেলফোর্ড এর প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি রাজকীয় সনদ গ্রহণ করে যা পুরকৌশলকে একটি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। 

১৮১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নরউইচ ইউনিভার্সিটিতে প্রথম বেসরকারি কলেজ হিসেবে পুরকৌশল পড়ান শুরু করা হয়। মানব সভ্যতার শুরু থেকে প্রকৌশল জীবন ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। খ্রিষ্টপূর্ব (২০০০ থেকে ৪০০০) সালকে প্রচীন মিশরীয় সভ্যতা বলা হয় মেসোপটেমিয়ার সভ্যতা (প্রচীন ইরাক) থেকে পুরকৌশলের যাত্রা শুরু বলে ধারনা করা হয়। 

আরো পড়ুন: রাতে ঘুমানোর আগে তিনবার যে দোয়াটি পড়লে আমাদের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায় 

ঠিক যখন থেকে মানুষ তাদের বসবাসের জন্য আবাস নির্মানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সেই সময়ে চাকা এবং পাল আবিস্কার হবার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব দারুনভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত পুরকৌশলের বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের একটুকু মনে নি। চাহিদা সেই প্রাচীন কালেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বা পুরকৌশল তেমনি একটি বিষয়।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের আয় ও বেতন কেমন

অনেকেই মনে করে এই বিষয় পড়লে ঘুষ খেতে হয় কিংবা এই প্রকৌশলীদের আয় ও বেতন নেই আর থাকলেও খুব কম। কিন্তু ভাল মন্দ সম্পূর্ণ নিজের কাছে। কেউ যদি ঘুষ খেতে চায়, যে কোন জায়গা থেকেই তা করতে পারে। ভাল থাকতে চাইলে যে কোন জায়গাতেই ভাল থাকা সম্ভব। আর আয় বা বেতনের সঠিক বলা সম্ভব নয়। 

এই বিষয়ে যার যত দক্ষতা থাকে তার উপর আয় হয়। আর এর এত বেশি মূল্য যা অন্য কোন বিষয়ে তা সম্ভব না, তা দেশেই হোক আর বিদেশেই হোক। সময়ের সাথে সাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর গুরুত্ব অনেক বাড়ছে। বর্তমানে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কাজ করে। 

তারা আগুনে ক্ষয় ক্ষতি যেন কম হয় সেই বিষয়েও কাজ করে। পুরাতন মিশর এর পিরামিড বা রাস্তা নির্মাণে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর ভূমিকা উল্ল্যেখযোগ্য অবদান ছিল। পানি বাতাস এবং মাটি পরিশোধনের বিভিন্য উপায় নিয়েও তারা সজাগ। 

আমেরিকার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর পর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের গড় বেতন সবচেয়ে বেশি। তবে তার মানে এই নয় যে সবাই উচ্চ বেতনের job পাবে, এজন্য প্রকৌশলীকে সেই পর্যায়ের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

এটা শুধু পুরকৌশল নয়, সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) একজন সিভিল ইঞ্জি্নিয়ার এর বার্ষিক বেতন ৮০০০০ ইউ.এস.ডলার হতে ২০০০০০ ইউ.এস. ডলার যেটা বাংলা টাকায় ৮১৫৯৮১৭ - ২০৩৯৯৫৪৪  হয়ে থাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.