শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা অপরিহার্য । শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা যেমন এটিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে যা শক্তিশালী হাড়, দাঁত এবং পেশী বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। গরুর দুধে ভিটামিন ডি রয়েছে যা শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। চলুন শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা বিস্তারিত জানা যাক।
দুধ হল স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্তন্যগ্রন্থি থেকে উৎপন্ন অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এক প্রকার সাদা তরল পদার্থ এবং দুধ মানুষের একটি প্রধান খাদ্য। স্তন থেকে দুগ্ধ নিঃসরণের প্রাথমিক পর্যায়ে কোলোষ্ট্রাম সমৃদ্ধ শাল দুধ উৎপন্ন হয়, যাতে মায়ের দেহ হতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শিশুদের দেহে নিয়ে যায় এবং রোগাক্রান্ত হবার ঝুঁকি কমায়। এতে আমিষ ও ল্যাক্টোজ সহ অন্যান্য অনেক পুষ্টি উপাদান আছে। তাই শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা অনেক বেশি।
পোস্ট সূচিপত্র: শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা ও গরুর দুধের পুষ্টি ও গুনাগুণ
- শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ানো কি ঠিক
- শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা ও কোন বয়স থেকে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত
- শিশুদের জন্য গরুর দুধের প্রয়োজনীয়তা
- শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ানো কি ঠিক
বর্তমান সময়ের মা-বাবাদের একটাই দুশ্চিন্তা বাচ্চা খাবার খাচ্ছে না। শিশুদের খাবার খাওয়ানো বেশ কঠিন একটা জিনিস। তবে মা-বাবারা বিষয়টিকে অনেক জটিল করে তোলেন। তাই বাচ্চাকে ছোটবেলা থেকেই এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং এর পাশাপাশি অন্যান্য খাবার দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
একটি বাচ্চা এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং থেকে যতটা প্রোটিন পাই সেটি তার পুষ্টির অভাব পূরণ করতে পারেনা। তাই বাচ্চার বয়স যখন ১২ মাস কিংবা এক বছর হয়েছে তখন থেকেই বাচ্চাকে গরুর দুধ খাওয়ানো অতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ গরুর দুধে ভিটামিন ডি রয়েছে। ছোট থেকেই শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা অপরিহার্য ।
আরো পড়ুন: প্রাকৃতিক উপায়ে চুল গজানোর উপায় - মাথার সামনে চুল গজানোর উপায়
কারণ গরুর দুধ খাওয়ানোর ফলে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বনমেরু ও হার অনেক শক্তিশালী হয়ে থাকে, যার কারণে শিশু ছোটবেলা থেকে অনেক স্বাস্থ্যবান হয়ে বড় হয়। তাই শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা বলে বোঝানো যাবে না কতটা গুরুত্বপূর্ণ ।
শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা ও কোন বয়স থেকে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত
শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা আমরা সবাই জানি কিন্তু শিশুদের বয়স ১২ মাস হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুকে গরুর দুধ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ভুল ক্রমেও গরুর দুধ দেয়া উচিত হবে না। গরুর দুধে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস।
গরুর দুধে রয়েছে সোডিয়াম যেটা মায়ের দুধের চার গুণ বেশি ও পটাশিয়াম মায়ের দুধের তিন গুণের বেশি এবং ফসফরাস রয়েছে মায়ের দুধের ছয় গুণেরও বেশি। এক বছরের কম বয়সী শিশুদের রেচনতন্ত্রে ভেতর থাকা কিডনি অনেক দুর্বল হয়ে থাকে। তাই অতিরিক্ত মাত্রার খনিজ নিষ্কাশনে কিডনির ছাঁকনিতে সমস্যার দেখা দেয়।
যেহেতু দুধে প্রোটিনের পরিমাণ মায়ের দুধের থেকে অনেক বেশি থাকে তাই প্রোটিন হজম করতে সমস্যা হয় ১২ মাসের কম বয়সী শিশুদের। তাই যেহেতু শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা অনেক রয়েছে কিন্তু সেটা সঠিক সময়ে শিশুকে খাওয়ানো উচিত। আর সব দিক বিবেচনা করে শিশুকে ১২ মাসের আগে কখনোই গরুর দুধ দেওয়া যাবে না।
শিশুদের জন্য গরুর দুধের প্রয়োজনীয়তা
শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা অনেক রয়েছে কিন্তু শিশুদের জন্য গরুর দুধের প্রয়োজনীয়তা কতটা সেটা কি আপনি জানেন। চলুন জানা যাক মায়ের দুধে ও গরুর দুধে কতটা প্রোটিন রয়েছে ।
এক কাপ মায়ের দুধে আমিষ রয়েছে ২.৫ গ্রাম এবং গরুর দুধে আমিষ রয়েছে ৭.৯ গ্রাম। মায়ের দুধে শ্বেতসার আছে ৭ গ্রাম ও গরুর দুধে ১১ গ্রাম। মায়ের দুধে চর্বি রয়েছে ১০.৮ গ্রাম ও গরুর দুধে ৭৯ গ্রাম।যেটা মায়ের দুধের থেকে গরুর দুধে অনেক বেশি রয়েছে।
আরো পড়ুন: অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ক্ষতি দিক - বেশি ফোন দেখলে কি হয়
মায়ের দুধে ওমেগা৬ রয়েছে ৯২০ মিলিগ্রাম এবং গরু দুধে ওমেগা৩ রয়েছে ১৩০ মিলিগ্রাম। মায়ের দুধে ভিটামিনের পরিমাণ রয়েছে ৫০০ আই ইউ এবং গরুর দুধে ২৪৯ আই ইউ রয়েছে। মায়ের দুধে ভিটামিন ই ০.২ মিলিগ্রাম ও গরু দুধে ০.১ মিলিগ্রাম। মায়ের দুধে ভিটামিন সি রয়েছে ১২.৩ মিলিগ্রাম ও গরু দুধে নেই।
যেটা গরুর দুধের থেকে মায়ের দুধে অনেক বেশি রয়েছে। শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা রয়েছে তেমনি রয়েছে যতটা মায়ের দুধ। তাই শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি গরুর দুধের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বিশেষজ্ঞদের মতে গরুর দুধে অধিক পরিমান প্রোটিন রয়েছে, যেটা শিশুদের শরীর সহ্য করতে পারে না। ১২ মাসের আগে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ালে বিভিন্ন অ্যালার্জি হতে পারে। আবার অনেকে শিশুরা মায়ের দুধ পায় না, তারা কী খাবে ১২ মাস আগে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই সমস্ত শিশুদের শরীরে পুষ্টির জন্য বিকল্প কিছু দিতে পারেন।
আরো পড়ুন: দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় - মাসিক হওয়ার ট্যাবলেটের নাম
এক বছর বয়সের নিচের শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ালে তাদের অপরিণত কিডনিতে চাপ তৈরি করে এতে কিডনি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরইসঙ্গে তাদের পক্ষে গরুর দুধ হজম করা অনেক কঠিন হয়ে থাকে, আবার গরুর দুধে শিশুদের ছোট থেকেই অ্যালার্জির মতো সমস্যা হতে পারে।
এই সকল সমস্যার কারণের জন্যই ১২ মাসের কম বয়সের শিশুদের গরুর দুধ খাওয়াতে নিষেধ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ১২ মাস পরে শিশুদের জন্য গরুর দুধের উপকারিতা অপরিহার্য।
