রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন শিক্ষার্থীর ঘটনা

মহান আল্লাহতালা মানুষ ও জিন তৈরি করেছেন মানুষ তৈরি করেছেন মাটি দিয়ে আর জিন তৈরি করেছেন আগুন দিয়ে। মানুষ আর জিনদের মাঝে পার্থক্য হলো জিনরা অদৃশ্য হতে পারে আর চেহারা বদলাতে পারে কিন্তু মানুষরা এমন কিছু করতে পারে না মানুষরা দৃশ্যমান।

ঘটনাটি বেশ কয়েক বছর আগে আনুমানিক ১৯ দশকের ঘটনাটি ঘটছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর সাথে" শিক্ষার্থীর নাম আমি বাবুল দিলাম বোঝার স্বার্থে। বাবুলের ভারসামাতে "আমি" কিছুদিন আগেই কলেজের গণ্ডি পার হয়ে হয়েছে আর এখন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়েছি অনেক ভালো লাগছে।

আমার বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর হয়" তাই বাসে যাতায়াত করতে করি, একদিন বাড়িতে বললাম মেসেজ থেকে কলেজ করব। বাড়ি থেকেও সম্মতি দিল' বাবা তার বন্ধুর মাধ্যমে আমার একটা ম্যাচের ব্যবস্থা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর।

প্রথম দিন যখন ম্যাচে গিয়ে উঠলাম দেখলাম ম্যাচে দুইটা বেডরুম আমি কেয়ারটেকারকে বললাম মামা আমার সাথে অন্য কেউ থাকবে। কেয়ারটেকার  মামা বলল হ্যাঁ মামা দুই দিন আগে একটা ছেলে উঠেছে এই রুমে ছেলেটির নাম কি যেন হ্যাঁ রুবেল।

আমি বললাম ও আচ্ছা ঠিক আছে মামা আপনি এখন যান। মামাকে পাঠিয়ে দিয়ে আমি আমার জিনিসপাত গুছা ছিলাম কিছুক্ষণ পরেই পিছন থেকে কে যেন সালাম দিল। আমি তাকে সালামের উত্তর দিয়ে বললাম তুমি কি রুবেল, সে হেসে বলল হ্যাঁ আমি রুবেল।

আরো পড়ুন: রোমানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থান

তোমার নাম তো বাবুল তাই না" আমি বললাম হ্যাঁ আমি তাকে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম আমার নাম তুমি কিভাবে জানলে। আরে কেয়ারটেকার মামা বলল তুমি আসছো, তো যাই হোক তুমি লাঞ্চ করছো` আমি বললাম না রুবেল বলল চলো দুইজন মিলে একসাথে লাঞ্চ করি।

তাই বলে দুজন মিলে কলেজের ক্যান্টিনে গিয়ে লাঞ্চ করলাম এবং অনেক গল্প করলাম এভাবে গল্প করতে করতে কখন যে বিকেল হয়ে গেল বুঝতে পারলাম না। তো এভাবে কথা বলতে বলতে একটা সময় ওর সাথে আমার একটা ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল। 

তো এভাবে অনেক কয়েক মাস চলে গেল কলেজে থেকে জানালো সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। তাই দুজন মিলে অনেক রাতভর পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমার থেকে রুবেল বেশি বেশি পড়তো আর সময়টা যেহেতু গ্রীষ্মকাল ছিল তো বুঝতেই পারছ অনেক গরম ছিল।

তাই জানালার দরজা খুলে পড়তাম দরজা দিয়ে বেশ ভালো বাতাস আসত তো সেই দিন রাতে পড়তে পড়তে অনেক আলিশ লেগে গিয়েছিল আমার। তাই আমি রুবেলকে বললাম দোস্ত আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে তুই দরজাটা লাগিয়ে দিস।

তো রুবেলকে বলে আমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে চোখ বুঝেছি সে সময় দরজা আটকানোর শব্দ পেলাম। আমি তার সাথে সাথে চোখ খুলে দেখি রুবেল পড়ার টেবিলে বসে আছে কিন্তু দরজা বন্ধ" আমি কয়েক সেকেন্ড আগে দরজা খোলা দেখলাম

আরো পড়ুন: ফুটপাতে চা বিক্রি করে কোটিপতি

ব্যাপারটা আমার কাছে অনেকটাই আজব লাগে তাও তেমন কিছু না ভেবে সেদিন মত ঘুমিয়ে গেলাম। তো এভাবেই অনেক অনেক দিন পার হয়ে যায় পরীক্ষাও শেষের দিকে। আর একটা পরীক্ষা আছে তো আমি সেদিন রাতে আবার শুয়ে পড়লাম অনেক রাত ধরে পড়ছিলাম আর রুবেল কে বললাম দোস্ত তুই ঘুমানোর আগে দরজা লাগিয়ে দিস।

আমি বিছানায় শুয়ে অল্প করে চোখ খুলে রাখছিলাম আর ঘুমানোর ভান করলাম, মনে মনে ভাবছিলাম ও কিভাবে দরজা বন্ধ করছিল সেদিন। তাই অল্প করে চোখ খুলে রেখে অনেকক্ষণ এভাবে থেকে তেমন কিছু দেখলাম না" তাই চোখ বন্ধ করবই সেই সময় দেখি রুবেলের হাত বড় করে দরজা বন্ধ করে দিল। 

আমি বুঝতে পারছিলাম না পড়ার টেবিল থেকে দরজার কাছে ওর হাত কিভাবে গেল পড়ার টেবিল থেকে দরজা অনেক দূর ছিল ওর হাত যেন অনেকটা রাবারের মতন ছিল অনেকটা লম্বা হয়ে গেছিল। তখন আমার বুঝতে আর ভুল হলো না সে কোন মানুষ না।

আমি বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসলাম আর তাকে ভয়ে সুরে বললাম তুই কে। রুবেল আমাকে বলল দোস্ত তুই শান্ত হ তুই ভয় পাস না আমি তোর কোন ক্ষতি করব না দেখ দোস্ত আমি রুবেল আমরা জিন জাতি আমাদেরও মহান আল্লাহতালা তৈরি করেছেন।

তুই আমার সম্পর্কে কাউকে বলিস না দোস্ত" আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে বাইরে জানা জানি হলে। তারপর আমি ওর কথাবার্তা শুনে একটু স্বাভাবিক হলাম এভাবেই অনেকদিন চলে গেল আমি ওর থেকে মাঝে মাঝেই শুনতে চাইতাম ওদের জগতের কথা ও বলতো ওদের জগৎ নাকি অনেক সুন্দর ওদের জগতে যা চাই তাই পাওয়া যায়।

আমি তাই একদিন রুবেলকে বললাম দোস্ত আমি তোদের জগতে একবার যেতে চাই" সে কথা শুনে অনেক রাগ করে এবং বলে সে  তাদের জগতে আমাকে কখনো নিয়ে যাবে না।আমি ওকে অনেক আকুতি-মিকুতি করলাম তারপর অনেকক্ষণ পর রুবেল আমাকে বলল

দেখ দোস্ত তোদের জগত আর আমাদের জগতের মাঝে অনেক পার্থক্য তুই যদি আমাদের জগতে যাস হয়তো আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমি রুবেলকে বললাম কেন কি হয়েছে" রুবেল কোন উত্তর দিল না। তারপরে আমি আবার রুবেলকে বললাম দোস্ত একবার আমি যেতে চাই তোদের জগতে, তো এবার রুবেল রাজি হলো।

রুবেল বলল আমি তোকে নিয়ে যাব কিন্তু পরীক্ষা শেষে আমাদের জগতে শুরু একদিনের জন্য। রুবেল আমাকে আরো বলল তুই যদি আমাদের জগতে যাস তুই আমাদের জগতের কোন কিছুতে হাত দিবি না" এবং কোন কিছু খাবিও না আর কোন কিছু ওখান থেকে নিয়েও আসবি না।

ওখানে তোকে অনেক কিছুর লোভ দেখাবে তুই কিন্তু লোভে পড়বি না। আমি রুবেলকে ঘাড় নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক সম্মতি দিলাম। রুবেল আবারও বলল, তুই যদি ভুল করেও কিছু নিয়ে থাকিস তাহলে তুই আমাদের জগতে আটকা পড়ে যাবি।আমি হাজার চাইলেও আমি তোকে আমাদের জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারব না।

আমি রুবেলকে বললাম দোস্ত তুই আমাকে বিশ্বাস কর আমি এমন কোন কাজ করবো না। তারপর পরীক্ষায় শেষ হয়ে যায় আমি তো অনেক এক্সাইটিং ছিলাম আমি রুবেলের সঙ্গে তার জগতে যাব। তো রুবেল আমাকে সেদিন রাত বারোটার সময় বাইরে নিয়ে আসে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি বড় পুকুরের কাছে নিয়ে দাঁড় করায়।

কিছুক্ষণ পর রুবেল কি যেন বিড়বিড় করল এবং হাতটি পুকুরের দিকে দিতেই পুকুরের ভেতর থেকে একটি রাস্তা বের হয়ে আসলো" রুবেল আমাকে বলল তুই আমার পিছে পিছে আসবি। আমিও রুবেলের পিছে পিছে গেলাম সামনে দেখলাম অনেক ধোঁয়া, ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে রুবেন চলে গেল এবং আমাকে বলল তুইও চলে আয়।

আরো পড়ুন: কত সালে ইউটিউবের জন্ম হয় 

ধোঁয়া ভিতরে পার হতেই দেখলাম একটি অনেক বড় বিল্ডিং, দেখে মনে হচ্ছিল যেন পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু জায়গাটা অনেক সুন্দর ছিল, রুবেল আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে গেল তারা মা বাবা ভাই বোনের সঙ্গে আমার পরিচয় করালো। ওদের পরিবারের সদস্য ৬ জন ছিল, তারা সবাই দেখতে মানুষের মতই" রুবেলের মা অনেক ভালো জিন ছিল।

ওনি আমাকে খাবার খাওয়ার কথা বলল, তখনই আমার রুবেলের কথা মনে পড়ল সে আমাকে কোন কিছু খেতে মানা করছিল" তো তাই আমি রুবেলের মাকে বললাম আমি এখন কিছু খাব না, দেখলাম রুবেলের মা একটু কষ্টই পেল। রুবেলের জগত ঘুরলাম ফিরলাম আমার জীবনের দেখা এটাই এত সুন্দর জায়গা ছিল।

যখন ফিরে আসবো তখন অনেক জিনদের দেখছিলাম আমার দিকে তাকিয়ে ছিল দেখতে আমার কেমন যেন একটা ফিল হচ্ছিল। তারপর রুবেল আমাকে তাদের জগত থেকে আমাদের জগতে ফিরিয়ে নিয়ে আসলো" আর রুবেল বলল দোস্ত এটা আমাদের শেষ দেখা তাই বলে রুবেল তার জগতে চলে গেল।

আমি তখন বুঝতে পারলাম না রুবেলের এই কথার মানে কি ছিল। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি সে আর কোনদিন আমাদের জগতে আসবে না আমি ওদের জগতে গিয়েছি তার জন্য ও আর কোনদিন ওদের জগৎ থেকে বার হতে পারবেনা। 

আমার মতামত 

আসসালামুয়ালাইকুম ঘটনাটি পুরোটাই সত্য আমি সেই ছোটবেলা থেকে শুনছি তাই মনে করলাম আপনাদের জানানো দরকার এই ঘটনার সম্পর্কে ঘটনাটি শুনে যতটা ভয় লাগছে তার থেকে বেশি খারাপ লাগছে কারণ রুবেলের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেল শুধু বন্ধুর ইচ্ছে পূরণের জন্য।

পৃথিবীতে যেমন ভালো খারাপ মানুষ আছে তেমন জ্বিনদের ভেতর ভালো খারাপ সবাই আছে। তো গল্পটি আমি অনেক কষ্ট করে লিখেছি আশা করি তোমাদের সবার ভালো লাগবে আর খারাপ লাগলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবে কোন কোন জায়গায় আমার ভুল হয়েছে পরবর্তীতে আমি সেগুলো শোধরানোর চেষ্টা করব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.