শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন - শুষ্ক ত্বকের যত্ন

শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন কিভাবে করবেন। ঘরোয়া ভাবে যদি শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিতে চান তবে অ্যালোভেরার ব্যবহার অতুলনীয়। প্রতিটা বাড়িতে অ্যালোভেরার গাছ থাকে আর অ্যালোভেরার শুধু ত্বকের জন্য নয় চুলের জন্য বেশ উপকারী অ্যালোভেরার। শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন আপনারা অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করে আপনার ত্বকে লাগাতে পারেন এটি ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। চলুন বিস্তারিত জানা যাক কীভাবে শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন নেবেন,শুষ্ক ত্বকের ফেসপ্যাক, শুষ্ক ত্বকের ক্রিম, শুষ্ক ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার, শুষ্ক ত্বকের ময়েশ্চারাইজার, শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো।

শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন

পোস্ট সূচীপত্র:  শুষ্ক ত্বকের যত্ন ও শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন কিভাবে নেবেন 

কীভাবে শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন

বাংলাদেশের সব থেকে শীতকালীন সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক । এই শুষ্ক ত্বকের যত্ন কিভাবে নিবেন চলুন জানা যাক । বেশকিছু শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন রয়েছে যেগুলো আমাদের আশেপাশেই থাকে আর সেগুলো কিনতেও হয় না তেমন, সেগুলো আমাদের বাড়িতেই পাওয়া যায়। 

আরো পড়ুন: গরম পানি খেলে কি গ্যাস হয় - গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

যেসব ব্যবহার করে আমরা শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন নিতে পারব সেগুলো হলো: পাকা পেঁপে, পাকা কলা, অ্যালোভেরা, দুধের সর, জলপাই তেল, নারিকেলের তেল, বেসন ও দুধের পেস্ট আশা করি এগুলো সবার বাড়িতেই পাওয়া যায় আর এগুলো ব্যবহার করে কিভাবে শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন নেবেন কিংবা শুষ্ক ত্বকের যত্ন নেবেন চলুন একটু বিস্তারিত জানা যাক। 

পাকা কলা ব্যবহার করে কিভাবে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নেবেন

  1. ‌প্রথমত একটি ভালো পাকা কলা চিহ্নিত করে নেবেন।
  2. ‌এরপর পাকা কলার খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং কলা টিকে ব্লেন্ডার এর মাধ্যমে গুলিয়ে নিন।
  3. ‌এবার গলানো কলা কে একটি বাটিতে রাখুন এবং এক চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  4. ‌মুখ ধুয়ে আপনার কলা দিয়ে তৈরি মিশ্রণটি আপনি মুখ লাগিয়ে নিন। 
  5. ‌১৫-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

এভাবে সপ্তাহে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করুন। এভাবে এক সপ্তাহ ব্যবহারের পরে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আগে থেকে অনেক বেশি উজ্জ্বল।

পাকা পেঁপে ব্যবহার করে কিভাবে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নেবেন

  1. ‌একটি ভালো পাকা পেঁপে সংগ্রহ করুন।
  2. ‌পেঁপের ওপর থেকে ছাল ছেড়ে পেপেটিকে ব্লেন্ডারের মাধ্যমে ব্র্যান্ড করে নিন।
  3. ‌ব্র্যান্ড করা পেঁপের সঙ্গে এক চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  4. ‌তৈরিকৃত পেস্টটি মুখে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন এবং ২০-৩০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

এভাবেই সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ বার এই পেস্টটি ব্যবহারে করলে ত্বকের আর্দ্রতা ও মসৃণতা ফিরে আসবে।

শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন অ্যালোভেরার কিভাবে ব্যবহার করবেন

  1. কীভাবে শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন অ্যালোভেরার ব্যবহার করে আপনার ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করবেন।
  2. ‌প্রথমত অ্যালোভেরার মোটা ও পুষ্ট একটি ডাল কেটে নেবেন। 
  3. ‌এবার অ্যালোভেরার ভেতরের জেল টি বের করে একটি বাটিতে রাখুন।
  4. ‌এবার অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এক চামচ নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  5. ‌ মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে রেখে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। 

সাধারণত অ্যালোভেরার জেল ও নারিকেল তেল ত্বকের পরিশোধনের বেশ ভালো কাজ করে। এভাবে আপনারা শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন নিতে পারবেন প্রতিদিন।

শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন দুধের সর কিভাবে ব্যবহার করবেন

  1. ‌ দুধ থেকে দুধের সর আলাদা করে রাখুন 
  2. ‌ আলাদা করার সরের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
  3. ‌এবার পেস্টটি মুখে লাগিয়ে নিন। 
  4. ‌৫ থেকে ১০ মিনিট পরে মুখে পেস্টটি শুকিয়ে গেলে, এবার কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

প্রতি সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার পেস্টটি ব্যবহার করবেন। এ পেস্টটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এবং ত্বককে কোমল রাখতে খুবই উপকারী। 

জলপাই তেল ব্যবহার করে কিভাবে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নেবেন

এখন পর্যন্ত আমরা উপরে যে কয়েকটা পেস্ট তৈরি করলাম সেগুলোতে কম বেশি তেল বা মধু ব্যবহার করতে হয়। অলিভ অয়েল বা জলপাই তেলে রয়েছে ভিটামিন-এ,ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ত্বককে সতেজ রাখে ও ময়েশ্চারাইজ করে।

শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন নারীকেলের তেল কিভাবে ব্যবহার করবেন

সেই আদিকাল থেকে নারিকেল তেল ও নারিকেলের উপকারিতা এখন পর্যন্ত বজায় রয়েছে। বয়সের ছাপ ও ফেটে যাওয়া ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে নারিকেল তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। চেষ্টা করবেন প্রতিদিন গোসলের আগে নারিকেল তেল দিয়ে মাসাজ করার। নারিকেল তেল দিয়ে মাসাজ করলে ত্বকের আলাদা করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

বেসন ও দুধের পেস্ট ব্যবহার করে কিভাবে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নেবেন

আমরা সবাই জানি দুধে প্রচুর পরিমাপ ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে যা মানব শরীরের জন্য বেশ উপকারী। দুধের ভিটামিন ও মিনারেল ত্বককে সতেজ করতে বেশ কার্যকরী। আর ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে এবং বয়সের ছাপ কমাতেও বেসন বেশ কার্যকরী উপাদান। দুধের সঙ্গে বেসন মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করবেন এবং সেই পেস্টটি সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করলে বয়সের ছাপ, ত্বকের শুষ্ক দূর করে ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনে।  

কিভাবে শুষ্ক ত্বকের ফেসপ্যাক তৈরি করবেন ঘরোয়া ভাবে

শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন করে কিভাবে শুষ্ক ত্বকের ফেসপ্যাক তৈরি করার সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। কিভাবে ঘরোয়া ভাবে ফেসপ্যাক তৈরি করবেন।

  1. ‌একটি বাটিতে এক চামচ হলুদ গুড়া নিন
  2. ‌সেই হলুদ গুড়ার সঙ্গে এক চমক মধু ও অল্প দুধ এবং দুই চামচ বেসন ও হাফ চামচ লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন।
  3. ‌এবার তৈরিকৃত ফেসপ্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত।
  4. ‌শুকিয়ে গেলে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

প্রতিমাসে দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করবেন এই ফেসপ্যাক। এই ফেসপ্যাক ত্বকের শুষ্কতা থেকে শুরু করে যে কোনও সমস্যাকে দূর করে দেবে।

বেশ কিছু শুষ্ক ত্বকের ক্রিম 

বর্তমানে বাজারে বেশ কিছু শুষ্ক ত্বকের ক্রিম দেখতে পাওয়া যায়। চলুন জানা যাক শুষ্ক ত্বকের ক্রিম সম্পর্কে বিস্তারিত। 

  1. ‌Neutrogina 
  2. ‌Simple
  3. ‌Nivea
  4. ‌Revuele
  5. ‌Himalayan
  6. ‌Vasaline
  7. ‌Aveeno 

এগুলো ব্যবহার করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন। এগুলো যতটি ত্বকের জন্য উপকারী ততটাই সাইড এফেক্টস থাকে তো বুঝে শুনে এগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। 

শুষ্ক ত্বকের ময়েশ্চারাইজার

আমাদের অনেকের ত্বক শুষ্ক থাকে, অন্যান্য ত্বকের চেয়ে শুষ্ক ত্বকের যত্ন করাটা অনেক বেশি কঠিন। ত্বক আর্দ্রতা ও সুন্দর রাখতে গ্লিসারিনের ব্যাবহারের তুলনা নেই। তবে এটা ব্যবহারে ত্বকে আঠালোভাব আসে। বাজারে বেশ কিছু ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়। চলুন সেগুলোর সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। 

  1. ‌Lilac Brightening Moisturiser
  2. ‌Jergens Softening Musk Moisturizer
  3. ‌Simple Kind to Skin Replenishing Rich Moisturizer
  4. ‌CeraVe Moisturizing Cream 

এই সকল ময়েশ্চারাইজারটি ফেস ও বডির স্কিনের জন্যে বেশ উপকারী। ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সক্ষম। এগুলো বাজারে ভিন্ন দামী কিনতে পারবেন" এগুলো ব্যবহারের বেশ উপকারী হয়ে থাকে ত্বকের। আর এগুলো বিশেষ করে শীতকালে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। আপনারা ঘরোয়াভাবে যেটা অল্প দামে কিনতে পারেন সেটা হল গ্লিসারিন, অনেক ভালো কাজ করে ময়েশ্চারাইজার হিসাবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো

শুষ্ক ত্বকের জন্য বাজারে বেশ কয়েকটি ফেসওয়াস পাওয়া যায়। আপনি যদি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে থাকেন, তবে অবশ্যই আপনাকে ফেসওয়াশ আগে ব্যবহার করতে হবে। কারণ ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পরেই আপনি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারবেন। চলুন জানা যাক শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো। 

  1. ‌সেটাফিল জেন্টল স্কিন ক্লিনসার, বর্তমানে এই ফেসওয়াস বাংলাদেশের সব জায়গায় পাওয়া যায়। এই ফেসওয়াশ আপনার ত্বকের লুকিয়ে থাকা ময়লা দূর করে এবং ত্বকে অনেক উজ্জ্বল করে।
  2. ‌অ্যারোমা ম্যাজিক ল্যাভেন্ডার ফেসওয়াশ, এই ফেসওয়াশ বয়সের ছাপ পড়তেও বাধা দেয় কারণ এতে কমলামলেবুর নির্যাস রয়েছে।
  3. ‌রাস্টিক আর্ট অরগ্যানিক জুনিপার বেরি ফেসওয়াশ, এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের আদ্রতা বজায় রেখে ত্বককে পরিষ্কার রাখে।
  4. ‌মামাআর্থ উপটান ন্যাচারাল ফেসওয়াশ, এটা একটি ইন্ডিয়ান ফেসওয়াস, এই ফেসওয়াশ গাজরের নির্যাস সমৃদ্ধ হওয়ায় ট্যান দূর করে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে এবং বয়সের ছাপ দূর করে।
  5. ‌হিমালয়া ময়েশ্চারাইজিং অ্যালো ভেরা ফেসওয়াশ, এটা যেহেতু অ্যালোভেরা দিয়ে তৈরি একটি ফেসওয়াশ তাই এটার ব্যাপারে আর বেশি কিছু বলার নেই। আমরা সবাই অ্যালোভেরা উপকারিতা সম্পর্কে জানি । এই ফেসওয়াশটি ব্যবহারে ফলে আপনার ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতাকে ফিরিয়ে আনে এবং ত্বককে আরো বেশি উজ্জ্বল করে।
আর আপনার যদি ফেসওয়াশ কেনার সামর্থ্য না হয়ে থাকে তবে আপনি শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন নিতে পারবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.